নারী পুরুষের প্রয়োজনে সৃষ্টি

১ম 
রাহাত, আজাদ দুই বন্ধু। ছোটবেলা থেকেই একসাথে বেড়ে উঠা। চাকরির সুবাদে দুজন আজ ছাড়াছাড়ি, তবুও সুযোগ হলেই আজাদ হুট করে শহর ছেড়ে বাড়ী চলে আসে। বিকেল হলেই দুই বন্ধু ছুটে চলে গ্রামের এ- প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে।টইটই করে ঘুরে বেড়ায়, দুজন।গায়ের মাঠ,ঘাঠ,গাছগাছালী সবই ওদের খুব পরিচিত। আসরের আযান হলো মসজিদে দুজন নামাজ পরে আবার বেড়িয়ে পড়ে। গায়ের মাঠ ধূ-ধূ করছে সবুজের সমারোহে, যেদিকে চোখ পরে শুধু সবুজের গালিচা,কে যেন এমন মহা সুন্দর সৃষ্টি লীলায় লালিত করছে। হরেক ফুলের হরেক নাম, হরেক রকম গন্ধ, কি সুন্দর অপরুপ শোভা সে দৃশ্য ।রাহাত আর আজাদের মন ভরে যায়,মন ভরে আল্লাহ সুবহানাল্লাহ এর শুকরিয়া আদায় করে ওরা।
বিকেলের লালপ্রভা সূর্য কিরণ থইথই করে ঘুমানোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। কর্মব্যস্ত মানুষ গুলো ফিরছে, নিজ নিজ
গৃহে। মাঠের সবুজ গালিচায় বসে প্রাণ খুলে গল্প করছে দুজন।
আচ্ছা আজাদ বলতে পারিস,আল্লাহ তায়ালা এই সৃষ্টি রহস্য সম্পর্কে? প্রত্যেকটা সৃষ্টি কোন না কোন প্রয়োজনে। কেন এমন সৃষ্টি লীলা? অধীর আগ্রহে জিজ্ঞেস করে আজাদ।
রাহাত মুচকি হেসে জবাব দেয়, হা আমার বন্ধু। টিক বলেছো। কোন সৃষ্টি আল্লাহ সুবহানাল্লাহ এর নিছক সৃষ্টি নই।
আজাদ আবার জিজ্ঞেস করে আচ্ছা মানুষের প্রয়োজনে মানুষ সৃষ্টি কতটুকু যৌক্তিকতা। 
আজাদ চাচ্ছিলো রাহাতের  মুখ খুলতে। রাহাত অন্য মনস্ক হয়ে ছিলো,আজাদ রাহাতকে আধুলি ধাক্কা দিয়ে বলে, এই তোকে বলছিলাম। রাহাত হা,বন্ধু শুনছি। তুই বলছিলি মানুষের প্রয়েজনে মানুষ কেন সৃষ্টি?

তাহলে আমাদের সৃষ্টির শুরু থেকে দেখতে হবে। আল্লাহ তায়ালা সর্বপ্রথম আদম ( আ) কে সৃষ্টি করেন।
তখন আদম ( আ) কে আল্লাহ সুবহানাল্লাহ বলেন বেহেশতে থাকতে। কিন্তু আদম ( আ) এর বেহেশতে ভালো লাগছিলো না,চারপাশে ফেরেশতা আছে, ফুলফল আছে, বাগবাগিচা কোন কিছুর অভাব নেই, তবু মন বসে না।মনের সুপ্ত বাসনা আল্লাহ অবশ্যই ভালো জানেন।
তারপর আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টি করলেন আমাদের আদি মাতা মা হাওয়া ( আ) কে।
আজাদ রাহাতের দিকে তাকিয়ে থাম থাম,
' তাহলে তুই বলতে চাচ্ছিস, পুরুষের প্রয়োজনে আল্লাহ সুবহানাল্লাহ নারী জাতি সৃষ্টি করলেন? 
রাহাত ভ্রু কুঁচকে বলে উঠলো, বন্ধু আমি বলছি না, আল্লাহ তায়ালা বলছেন আল কুরআনে। 
আচ্ছা রাহাত আল্লাহ তায়ালা আদি পিতা আদম ( আ) এর প্রয়োজনে নারী জাতি মানে মা হাওয়া ( আ) কেই কেন সৃষ্টি করলেন? 
বন্ধু, আল্লাহ তায়ালার কোন সৃষ্টি বৃথা নয়, মহান উদ্দেশ্য থেকেই আমাদের মা হাওয়া সৃষ্টি। 
চল এবার যাওয়া যাক। 
রাহাত উঠতে যাচ্ছিলো, আজাদ রাহাতকে থামালো, বস,বস আর কিছুক্ষন বস।রাহাত আবার বসলো।
- আর কি বলবি, বল?
- রাহাত, তাহলে নারীপুরুষ সমান অধিকার,নারীকে প্রাধান্য? এটা কেমন প্রথা?
- বুঝতে পারছি তুই আমাকে ছাড়বি না,তোকে বলতেই হবে। তার আগে চল মাগরিবের নামাজ পড়ে নিই। আবিরের রঙ্গে ঘনিয়ে আসছিলো মৃদু অন্ধকার, তবুও বিরাট আকাশের আলোকোজ্জ্বল রংগে চারপাশটা পরিষ্কার দেখা যায়।মুযা্যজিনের সুমধুর কণ্ঠে ভেসে আসছিল আজান।যখন মুযাযজিনের হাইয়্যাআলাসালাহ,, ভেসে আসলো, রাহাত আর বসে থাকতে পারলো না,উঠে পড়লো রাহাত।আজাদ আর রাহুতকে থামালো না।দুজন অজু অবস্থায় ছিল, ওরা নামাজের জন্য প্রস্তুত নিলো। 

২য়
পুরুষের প্রয়োজনে নারী
আজাদ, রাহাতের নামাজ শেষ।নবীজি( স) এর উপর দরুদপাঠ করতে করতে রাহাত উঠে দাঁড়ালো।
- দেখ আজাদ এখনও সূ্র্য্যের আভা রং শেষ হয় নাই। অথচ আঁধারের আভা দিনের আলোকে ঘিরে ধরছে।প্রকৃতি কতটা নিয়মতান্ত্রিক যথা সময়ে উদয় অস্ত, অথচ আমাদের মানবজীবনে কতটা গড়মিল। আমরা নিয়ম মানতেই চাইনা।
- তুই কি যেন বলতে চাচ্ছিল, পুরুষদের প্রয়োজনে নারী সৃষ্টি। 
- চল, উঠ, হাটতে হাটতে কথা বলি।
দুজন হাঁটতে শুরু করলো। সবুজের মহাসমাবেশ, উপরে বিরাট আকাশ কি চমৎকার এক দৃশ্য। 
- আজাদ, আল্লাহ সুবহানাল্লাহ তায়ালা নারীকে পুরুষের প্রয়োজনেই সৃষ্টি করলেন। যদি বলি পুরুষের জীবনের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নারী।
- তুই কি বলতে চাচ্ছি স,বুঝতে পারলাম না। 
- যে দিক তাকাবি নারী,নারী তোকে জন্ম দিয়েছে, নারী তোর আদরের বোন, নারী ঘরের আদল। নারী জাতি না থাকলে হয়ত আমাদের মানব সমাজ নিঃশেষ হয়ে যেত।
- রাহাত তুই নারী জাতির অবদান বলছিস কিন্তু আমি তো তোকে বললাম যদি নারীকে পুরুষের প্রয়োজনে তবে কেন এই সমান অধিকার, সমান অধিকারের আন্দোলন? 
- রাহাত নারী জাতির অবদান অবশ্যই মূল্য দেয়ার ক্ষমতা আমাদের নেই।তবে হা নারীকে পুরুষের প্রয়োজনে আর যা বলছিস সমান অধিকার। সমান অধিকারের আন্দোলন নিছক। আল্লাহ সুবহানাল্লাহ যেখানে একজন পুরুষ সমান দুই জন নারী। সেখানে আমরা কেমন করে সমান অধিকারের কথা বলি?
- আচ্ছা, তুই দুই জন নারী এবং একজন পুরুষ সমান বলছিস?
- আমি বলছি না, আল্লাহ তায়ালা কুরআনে সুন্দর ভাবে বর্ণনা করেছেন। 
- তুই কি সম্পত্তি ভাগের হিসাব বলছিস।সেখানে তো নারীদের কম দেয়া হয়েছে। 
- না,কম না। নারী কত দিক থেকে সম্পত্তির ভাগ পায়, জানিস? পিতামাতার, স্বামীর, সন্তানের ( যদি সন্তান মারা যায় মা জীবিত থাকলে)তাহলে কোথায় নারী কম পাচ্ছে? 
এদিকে সন্ধার ঘনত্ত্ব ঘন থেকে ঘন হতে শুরু করছে। অন্ধকারের কালো রং সারা পৃথিবী ছেয়ে গেছে। এক আঁধারের চাদর মুড়ি দিয়ে রাতের শুরু হতে চলছে। ওদের যেতে যেতে রাতের আঁধার ঘনিয়ে  এলো। হয়ত ঘন্টা দুয়েকের মধ্যেই আকাশ বাগের চাঁদের উদয় হবে।এর মধ্যে ঈশার আযান ভেসে আসছে। 
মুযাযজিনের সুমধুর কণ্ঠস্বর আচমকাই মনে আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা করে।
- আজাদ সামনে মসজিদ চল, নামাজ আদায় করে নিই।


৩য়
ওদের নামাজ শেষ, নামাজ আদায় করে তসবিহ তাহলিল করতে করতে দুজন বের হলো মসজিদ থেকে।রাস্তার আবছা ঘন অন্ধকার দুই বন্ধু  পথ চলছে। ঈশার নামাজের পর আর কতটা ঘন অন্ধকার, কিছু ক্ষন পর চন্দ্রের উদয়ের অপেক্ষায় পৃথিবী অধীর আগ্রহে।ওদের পাশে দিয়ে হনহন করে চলে যাচ্ছিলো ওদের আরেক বন্ধু জনি। ওদের দেখেই আচমকাই দাড়িয়ে গেলো, 
-আরে তোরা কোথা থেকে এলি?
- একটু ঘুরে এলাম, তুই কই যাস? মুসাফা  করতে করতে জিজ্ঞেস করে আজাদ।
- কোথাও না,এই একটু ঘুরছি,এই আর কি।
-তো চল আমাদের সাথে, রাহাত মৃদু স্বরে বলে জনিকে।
জনি তেমন কিছু প্রশ্ন না করে ওদের সাথে হাটতে থাকে।কিছুক্ষন নিরবতার পর আজাদ, রাহাতকে প্রশ্ন তুলতে শুরু করে। 
- আচ্ছা রাহাত, রাস্তায় হাটার আদবটা কি আমাদের জানাবি?
হুট করে উওর দিয়ে ওঠে জনি,
 - রাস্তায় হাঁটার আবার আদব কি? হাঁটলেই তো হয়।
- না, বন্ধু এটা ভুল বললে। অবশ্যই রাস্তায় হাটার আদব আছে। আমাদের প্রিয় নবী ( স) আমাদের জন্য রাস্তায় হাটতে গেলে কিছু আদব শিখিয়েছেন।আমরা মানি না বলেই এত সমস্যায় পড়তে হয়। রাস্তায় হোঁচট খাওয়া থেকে শুরু করে এক্সিডেন্ট পর্যন্ত, সব সমস্যা এই আদব না মানার জন্যই হয়।
- কি বলিস, রাহাত রাস্তার আদব!আগে তো কখনও ভাবিনি।আজাদ অবাক হয়ে রাহা তের দিকে তাকায়।
- হা, বন্ধু। ইসলাম আমাদের জীবন বিধান। মানব জাতির কল্যানের জন্য সমস্ত নিয়মনীতির সমাহার।
- তা হলে বলে ফেল, কি আদব আছে। রাস্তার ব্যাপারে? আগ্রহের সাথে জনি বলে ওঠে। 
- তার আগে এই প্রশ্নটা সমাধান করি।
- হ,হ ঠিক আগেরটা সমাধান কর।আজাদ কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে বলে রাহাতকে।
- দেখ, পুরুষের প্রয়োজনে নারী সৃষ্টি। এ বিষয়ে আলোচনা এক রাতেও শেষ করা সম্ভব না। তারপরও কিছু মুল বিষয়ে আমি বলছি। মনে কর,
জনি আর ওর বউ দুজনে চাকরি করে। 
- এই এই আমি কেন, আমি কেন।মাঝখানে আটকালো জনি।
- বন্ধু উদাহরণ এটা, জনি এবং ওর বউ চাকরি করে। সকাল ৮ থেকে সন্ধা ৭ টা অবধি। তাহলে ওদের ঘুম থেকে উঠতে হবে কখন?  নিশ্চয় আরো আগে। উঠে রান্না, খাওয়া দাওয়া ইত্যাদি  ইত্যাদি । এখন কে রান্না করবে?  জনি নাকি ওর স্ত্রী? এজন্য হয় কাজের লোক রাখবে না হয় ওপর স্ত্রী ই রান্না করবে। এতে ওর স্ত্রীর মনে প্রশ্ন আসতে পারাটাই স্বাবাভিক, কেন আমি রান্না করবো জনিও তো করতে পারে। আমি ও চাকরি করি।এতে ওদের সংসারে কলহের সৃষ্টি হতে পারে। আর যদি বাচ্চার কথা বলি, কে দেখবে বাচ্চার দেখভাল?অনেকগুলো প্রশ্ন থেকেই যায়।
- তুই তো সমান অধিকারের কথা বলছিস। 
- হা, বন্ধু আগে সমান অধিকার দিয়েই আসি মুল বিষয়ে। ইসলাম আমাদের নারীদের কখন যুদ্ধ ক্ষেএে নিয়েছে, যখন প্রয়োজন পরেছে।পুরুষ না থাকলে সেখানে নারী নেতৃত্ব দেবে।পুরুষ থাকতে নারীর নেতৃত্ব অপ্রয়োজনীয় নয় কী? মনে কর, পাশের বাড়ীর সাথে তোদের মারামারি লেগেছে। এখন তুই তোর মা, বোন বা স্ত্রী কে পাঠিয়ে দিবি নাকি তোরা যাবি।
- অবশ্যই আমরা আগে যাবো। জনি বজ্রকণ্ঠে বলে ওঠে।
যেখানে আমাদের সমাজে কোটি কোটি বেকার যুবক সেখানে নারী অধিকার, নারী আন্দোলন, নারীদের চাকরি কেন?
নারী চাকরি করলে ঘর কে সামলাবে? কে বাচ্চার দেখভাল করবে?আদর্শ মা তার বাচ্চাকে আদর্শ মানুষ হিসাবে গড়ে তুলবে।আর সমান অধিকারের ভিত্তিতে দুজনই চাকরি করলে বাচ্চার ভবিষ্যৎ কতটুকু ভাল হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে? নারী সংসার রাজ্যের রানী, তার ঘোছালো হাতের স্পর্শে আমাদের জীবনে প্রশান্তি বয়ে আসবে।মনে আনন্দের ঢেউ খেলবে।একজন যোদ্ধা যুদ্ধ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়লে তাকে তার দলপতি বা উৎসাহ দানকারীরা দিগুণ উৎসাহে উদ্বুদ্ধ করে তোলে। যোদ্ধা আবার বহুগুণ আগ্রহে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। আমাদের সংসার নামে যুদ্ধ ক্ষেত্রে যদি উৎসাহের সাথীই না থাকে তাহলে কি ভাবে যুদ্ধ করবো?নারীজাতি পুরুষের জন্য উৎসাহ দানকারিনী,আত্মার তৃপ্তি, যাকে বলে সহধর্মিণী বা অর্ধাংগী।
- তাহলে নারীদের চাকরির প্রয়োজনীয়তা নেই?
- আছে, যেখানে পুরুষের প্রয়োজনীয়তা নেই সেখানে। 



৪র্থ
-তাহলে কি নারীদের চাকরির প্রয়োজনীয়তা নেই?
- আছে, অবশ্যই আছে। যেখানে নারী লাগবেই, সেখানে তো নারীদেরই থাকতে হবে। 
অনকক্ষণ পর জনি মুখ বললো
- তুই কি বলতে চাচ্ছিস,নারীদের সীমিত  ক্ষেত্রে চাকরীর কথা? যেখানে উন্নত বিশ্ব সমানতালে নারীদের কাজে লাগাচ্ছে, উন্নতির শিখরে এগিয়ে যাচ্ছে হনহন করে।সেখানে তুই নারীদের চাকরির বিপক্ষে।
- যেখানে আমাদের দেশে পুরুষ বেকার থাকে সেখানে নারী চাকরি দিয়ে কি হবে? উন্নত বিশ্ব তাদের জনবল এতটাই প্রয়োজন, যেকারণে নারীকে প্রয়োজন পরে তাদের কার্য ক্ষেত্রে।আমরা সেখানে, নিজের মা, বোন কে যুদ্ধের মাঠের পাঠিয়ে আমরা ঘরে বসে ঢিভি সিরিয়াল দেখব,এটা কেমন নিয়ম?
- তুই কি নিয়ম পাল্টাতে পারবি? 
- না,নিয়ম পাল্টাতে নয়, আমাদের দৃষ্টি ভঙ্গি পাল্টানো র দরকার।সংসার যুদ্ধ ক্ষেত্রের মতই।দু দ্বার থেকে শত্রু হামলা করতে পারে। আমরা এক দ্বারে যুদ্ধ করি, আমাদের সহধর্মিণী অন্য দ্বারে। যুদ্ধ ক্ষেত্রে কারো অবদান কম করে দেখা যায় না। 

তিন বন্ধু র আলাপচারিতা করতে করতে অনেকদূর এগিয়ে আসলো। রাত প্রায় দশটা।গ্রামের ঘরগুলোর বাতি বন্ধ, কিছু কিছু বাড়ীর দু'একটা বাতি জ্বলছে টিপটিপ করে। সামনে ওদের গ্রামের স্কুল।যেখানে কালের সাক্ষী হয়ে স্বগর্বে দাঁড়িয়ে আছে স্কুলটি।স্কুলের ওপার থেকে কিছু একটা ধোয়ার  গন্ধ আসছিল। যেটা সহজেই বুঝে ওঠে জনি , কারণ ওতো সেই লাইনের ছাত্র ছিল।ওরা চুপিসারে স্কুলের
 পাশের গলি দিয়ে এগিয়ে যায়।সেখানে আড্ডা দিচ্ছিলো গ্রামের আরো চারটা ছেলে, যারা কিনা এখনও ক্লাস টেনও পার করেনি।
এখনি নেশার মত বদ অভ্যাসে জড়িয়ে পরেছে।
রাহাত ওর বন্ধুদের থামায়,
- এখন ওখানে যাওয়া ঠিক হবে না, পরে এসময় ওদের বুঝিয়ে বলব।
রাহাত জানে আজাদ রাগী মানুষ, অন্যায় সহ্য হয় না, কখন কি করে বসে। এজন্য ওরা ফিরে আসে। 
রাহাত আবার মুল বিষয়ে ফিরে আসে।
- দেখ,এখানে চারটা ছেলে তারমধ্যে দুজনের বাবামা চাকরিজীবি। আর দুজন ওদের সঙ্গ দোষের বন্ধু। আজ যদি ওদের মা সচেতন হতে, তাহলে এই পরিস্থিতি হত না।

সামনেই জনিদের বাড়ী, জনি বহুত তোষামোদ করে এবং ওর  বাড়ীতে দুবন্ধু কে নিয়েই ছাড়ে।একপর্যায়ে ওদের খাওয়াদাওয়া শেষ হয়।জনি বাড়ী থেকে ্যায় আর ওরা নিজের বাড়ীর দিকে রওনা দেয়।
মিটিমিটি জোছনা,চাঁদের সমস্ত আলো যেন ছড়িয়ে দিয়েছে পৃথিবীর বুকে।আজাদ না ছাড়া বান্দা, আবার মুল বিষয়ে আলোকপাতের জন্য রাহাতকে প্রশ্ন তোলে।
- তাহলে কৃর্তত্ব করবে পুরুষ।
- হা, বন্ধু, আল্লাহ সুবহানাকা তায়ালা কুরআন মাজিদের সুরা নিসায় (৩৪)ঘোষনা করেন,পুরুষেরা কৃর্তত্বশীল নারীদের উপর,এজন্য যে আল্লাহ একের উপর অন্যের বৈশিষ্ট্য দান করেছেন, এজন্য যে, তারা তাদের অর্থ ব্যায় করে,নেককার স্ত্রী হয় অনুগত্যা।"
আল্লাহ তায়ালা র কড়া আদেশ থাকা সত্ত্বেও যদি মা,বোন কৃর্তত্ব করে, তাহলে আমাদের সবারই ব্যর্থতা।যার ফলাফল ইহকাল পরকাল ভোগ করতে হবে।ইসলাম থেকে গাফেল হলেই জীবনের শান্তি নষ্ট হবেই।

৫ম
রাত গভীর থেকে গভীর হতে চলেছে। কোন কাকপক্ষী ও শব্দ করছে না। প্রকৃতি নিস্তব্ধতার চাদরে গভীর ঘুমে অচেতন।  আজাদ আর রাহাত গল্প চালিয়েই যাচ্ছে। দুজনের বাড়ী পাশাপাশি। বাড়ীর বাইরে বসবার জন্য সুন্দর ব্যবস্থা আছে। 
ওদের আরেক দফা আলোচনা চলছে। কতক্ষণ চলবে?  আসুন আমরা এগিয়ে যাই।
- রাহাত তুই রাস্তায় হাটার আদব সম্পর্কে চলছিলি,কি আদব হতে পারে? 
- দেখ, রাত গভীর হয়ে গিয়েছে, বিস্তারিত বলতে পারব না, সংক্ষিপ্ত আকারে বলি।
আমাদের নেতা প্রিয় নবী মোহাম্মদ (সা) যখন রাস্তায় হাঁটতেন, ডান  পাশ দিয়ে হাঁটতেন,এদিক ওদিক না তাকিয়ে সামনের দিক মানে নিজের চলার দৃষ্টি ঠিক সামনে রাখতেন।পথে কোন কষ্ট দায়ক বস্তু থাকলে সরিয়ে ফেলতেন। কখনও অহংকারের সহিত পথ চলতেন না।এটাই আমাদের আর্দশ হওয়া উচিত। 
- ডান পাশে মানে যার যার ডান পাশ দিয়ে। 
- হা,বন্ধু। যদি কোন মুসলমানের সাথে দেখা হয় তাহলে সালাম দেয়া,কুশল বিনিময় করা। খোঁজখবর নেয়া।

ওদের গল্পের ধারাবাহিকতা একসময় ফুরিয়ে যায়। রাত গভীর থেকে গভীর হতে থাকে।
মধ্য রাতের পাখির ডাকে কেও আর গল্প করার সাহস রাখে না। নিস্তব্ধ পৃথিবীর নিয়ম-নীতির বাইরে কেও নয়। ইসলাম আমাদের জীবন বিধান, জীবনের প্রতিটি বিষয় ইসলাম আমাদের শিক্ষা দেয়। আমরা কুরআন মেনে চললে ইহকাল পরকাল সব কালেই শান্তি।আমাদের জীবন থেকে সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে, আমরা মূত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছি।কখন কার ডাক পড়বে, কে জানে!  জীবনের শেষ সময়ের অপেক্ষা না করে সঠিক সময়ে সঠিক কাজটি করি।হয়ত এমনও হতে পারে, ক্ষমা চাওয়ার সময়টুকু পাবো না।আমদের সামনেই আমাদের কত প্রিয়জন হারিয়ে যাচ্ছে, তারাও তো আমাদের মতই ছিল।আজ কোথায় অহংকারী মুখ, গর্ব করা সেই  দাম্ভিক?আল্লাহ সুবহানাকা তায়ালা একমাএ অস্তিত্বশীল।বাকি সবাই ক্ষনিকের অভিযাত্রী এবং তারই গোলাম। আসুন মালিকের দরবারে শেষ বারের মত ক্ষমার আর্জি জানাই।
সবাই ভালো থাকবেন, আসসালামু আলাইকুম। 
-
-



Comments